বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক ,
দীর্ঘ আট মাসের পর অবশেষে শেষ হলো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের সংলাপ। তত্ত্বাবধায়ক সরকার, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট, সাংবিধানিক কাউন্সিল ও উচ্চকক্ষে পিআরসহ মোট ১৬৬টি প্রস্তাবের মধ্যে ৭৫টিতে অর্জিত হয়েছে সর্বসম্মত ঐক্য। আরও ৯টি প্রস্তাবে দলগুলো নোট অব ডিসেন্টসহ আংশিক সমর্থন দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের রাজনৈতিক বিভাজনের সংস্কৃতিতে এটি নিঃসন্দেহে এক ইতিবাচক অগ্রগতি। যদিও মতানৈক্যের কারণে আলোচনার পুরোপুরি সফল সমাপ্তি হয়নি, তবুও ৭৫টি প্রস্তাবে একমত হওয়া রাজনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, “গণভোটের মাধ্যমে পরিবর্তন আনলে ভবিষ্যত সরকারও একই প্রক্রিয়ায় তা বদলে দিতে পারে। কিছুই স্থায়ী নয়—যেই দল ক্ষমতায় আসবে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে তারাই পরিবর্তন আনতে পারবে।”
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে গণভোটের সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য হলেও, তা কার্যকর করতে হবে নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমেই। অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ যাই হোক, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংসদে।”
বিশ্লেষকরা আরও মনে করেন, জুলাই আন্দোলনের পরও কোনও বিপ্লবী সরকার গঠন না হওয়ায় সংবিধান সংশোধন বা নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের দায়িত্ব এখন নির্বাচিত সংসদের হাতে। গণভোট কেবল ম্যান্ডেট দেবে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেবে সংসদ।
ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, “৭৫টি প্রস্তাবে ঐক্যমত হওয়াটাই বড় সাফল্য। আমরা ভেবেছিলাম ১০টিতেও একমত হওয়া কঠিন হবে। কিন্তু তারা সেটার চেয়েও বেশি ইস্যুতে ঐকমত্যে পৌঁছেছে—এটি এক বড় অর্জন।”
অন্যদিকে ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়ার মতে, “আমাদের মতো বিভক্ত রাজনৈতিক সমাজে হঠাৎ ঐকমত্য সম্ভব নয়। কারণ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বহু পুরনো অমীমাংসিত প্রশ্ন এখনও রয়ে গেছে।”
তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “জুলাই আন্দোলনের পর আমরা যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিলাম, তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। কমিশনের কাজ আশানুরূপ ফল দেয়নি।”
অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের ওপর আস্থার কথা বললেও বাস্তবে তা নেই। তারা মনে করে জনগণ ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, তাই নিজেরাই ক্ষমতার দাবিদার।”
আগামী ১৫ অক্টোবর ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেবে কমিশন। জুলাই সনদ সাক্ষর হতে পারে ১৬ কিংবা ১৭ অক্টোবরের মধ্যে।